বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০১৩

পাত্র খুঁজছি : অপর্ণা

অপর্ণা যে এ সময়ের জনপ্রিয় একজন অভিনেত্রী তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। অপর্ণার পুরো নাম অপর্ণা ঘোষ। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামে। ২০০৪ সালে বাবার অভিনয়ে মুগ্ধ হয়েই স্থানীয় থিয়েটার ‘নান্দিকার’ নিয়মিত মঞ্চকর্মী হন। এর পরে মঞ্চে অভিনয় করেন শেকসপিয়রের ‘ওথেলো’, ‘মার্চেন্ট অব ভেনিস’, ‘পাপপূণ্যসহ বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য নাটকে। ২০০৬ সালে লাক্স চ্যানেল আই সুপার স্টার প্রতিযোগিতায় সেরা পাঁচের একজন নির্বাচিত হন তিনি।

এরপর থেকে বেশ দ্রুতই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। সমানতালে অভিনয় করে আসছেন নাটক টেলিফিল্ম চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে। পিছে ফিরে তাকাবার মোটেও সময় নেই তার। এর মধ্যে তার সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিবেদক মাসুম আওয়াল। তারই কিছু নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।


বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে ঈদের নাটক ও টেলিফিল্মকে ঘিরেই ব্যস্ততা। সম্প্রতি শুটিং শেষ করেছি মাবরুর রশিদ বান্নাহ’র ‘রিস্টার্ট’ নাটকটির। এখানে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন অপূর্ব। আরও অভিনয় করেছি বিপাশা হায়াতের রচনা ও তৌকির আহমেদের পরিচালনায় ‘নিয়ন জোছনায় পরি’ শিরোনামের একটি ঈদের নাটকে। নাটকের গল্পটিও চমৎকার। এ নাটকটিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছি আমি।

‘নিয়ন জোছনায় পরি’ নাটকে আপনার চরিত্রটি নিয়ে কিছু বলবেন?
এখানে আমার চরিত্রটির নাম পরি। সংসারের ভার পুরোটাই পরির কাঁধে। নিজের সর্বস্ব হারিয়ে ছোটো ভাইয়ের বিদেশ যাওয়ার জন্য অর্থ সংগ্রহ করে পরি। অবশেষে বিদেশ যাওয়া হয় না প্রিয় ছোট ভাইটির। সব টাকা চলে যায় ভুয়া আদম ব্যাপারীদের হাতে । অন্যদিকে আমার সঙ্গে অফিসের বসের কুসম্পর্কের কথা জেনে যায় ছোট ভাই। এরপর বসের গায়ে হাত তোলে সে। আর সেই অপরাধে তাকে খুন করা হয়। আর পরির (আমার) চাকরিটাও চলে যায়। মাথার ভেতর ঘুরপাক খেতে থাকে হাজারো ভাবনা। বাড়িতে প্যারালাইজড মা। অবসরপ্রাপ্ত বাবা। আর ভবঘুরে ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর ছবিটা ভাসতে থাকে চোখের সামনে। শহরের নিস্তব্ধ রাত। নিয়ন আলোয় হেঁটে যেতে থাকে পরি। এভাবেই শেষ হয় ‘নিয়ন জোছনায় পরি’ নাটকের গল্প।

আর কোনো নতুন কাজ করছেন কি?
এছাড়াও তৌকির আহমেদের রচনায় ‘আব্দুল জলিলের বিদেশ যাত্রা’সহ ঈদের আরও বেশকিছু নাটকে অভিনয় করেছি। এ সবের পাশাপাশি কয়েকটি ধারাবাহিক নাটকেও   অভিনয় করছি । এর মধ্যে এনটিভিতে প্রচার হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক‘ ইচ্ছে ঘুড়ি’।

কোন ধরনের নাটকে অভিনয় করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
একের পর এক নাটকে অভিনয় করছি। যে কোনো ধরনের ভালো গল্পের নাটক কিংবা টেলিফিল্মে অভিনয় করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাই কাজও করি হাতে গুণে। ভালোমানের কাজ করতে পারলেই সবচেয়ে বেশি আনন্দ লাগে।

আপনার প্রথম চলচ্চিত্র মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার।’ এরপরে সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্র গাজী রাকায়েতের ‘মৃত্তিকা মায়া’তে অভিনয় করেছেন।  গত ৬ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়েছে চলচ্চিত্রটি। এর মধ্যে নতুন কোনো চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন?
হ্যাঁ, করেছি। বর্তমানে জাহিদুর রহমান অঞ্জনের পরিচালনায় প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আখতারুজ্জামানের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘রেইনকোর্ট’ চলচ্চিতের কাজ করছি। এ চলচ্চিত্রের গল্পটি মূলত মুক্তিযুদ্ধকেন্দ্রিক। আর শৈশব থেকেই মুক্তিযুদ্ধের গল্পের প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ। এখনো সুযোগ পেলেই গুরুজনদের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব গাঁথা শুনি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক নানা প্রামাণ্য, বই-পুস্তক সংগ্রহ করি। সেই ধারাবাহিকতা থেকেই এরকম একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।

এক সময় বসুন্ধরা করপোরেট, প্রাণ সস, অটবি, নিডো, প্যারাসুট নারিকেল তেলসহ বেশ কিছু বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে দর্শকের মন জয় করেছেন। এর মধ্যে নতুন কোনো বিজ্ঞাপনের মডেল হয়েছেন কি?
সম্প্রতি হোয়াইট প্লাস টুথপেস্টের একটি বিজ্ঞানের মডেল হয়েছি। বিজ্ঞাপনটিতেও নতুন চমক নিয়েই দর্শকের সামনে হাজির হতে যাচ্ছি। আশাকরি দর্শকদের ভালো লাগবে।

বিজ্ঞাপন, নাটক, নাকি চলচ্চিত্রে অভিনয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন?
সব মিলিয়ে নিজেকে একজন অভিনেত্রী ভাবতেই ভালো লাগে। নাটকে অভিনয় করেই বেশি আনন্দ পাই। আর চলচ্চিত্রে অভিনয় করাটা স্বপ্নের মতো। নিজেকে বড় পর্দায় দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

বিয়ে নিয়ে কী ভাবছেন?
বিয়ে নিয়ে খুব বেশি ভাবছি না। তবে পাত্র খুঁজছি (হা ...হা…হা…)। মনের মতো পাত্র পেলেই বিয়ে করে ফেলবো।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আপনাকে ও ধন্যবাদ।

সংশ্লিষ্ট সংবাদসমুহ