রেফারিকে এসপি হারুনের মারধরের সেই ভিডিও প্রকাশ, মুহূর্তেই ভাইরাল


২০১৮ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জে পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর সামাজিক গঠনমূলক কিছু কাজ করে প্রথম অবস্থায় বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন এস পি হারুন অর রশিদ। সাধারণ মানুষের আস্থাও অর্জন করেছিলেন তিনি। তবে, ছয়মাস পার হতে না হতেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডসহ নানা ইস্যুতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচিত হতে থাকেন তিনি। তার বিদায় নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

এই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে- মাঠ ভরা দর্শকের উপস্থিতিতে এসপি হারুনসহ পুলিশের সদস্যরা জার্সি পড়ে একজন ফুটবল রেফারিকে মারধর করছেন। আর ওই রেফারি মারধর থেকে বাঁচতে দৌড়ে মাঠ ছেড়ে যাচ্ছেন। তবে সে সময় পুলিশের পোশাকে থাকা সদস্যরা এসপি হারুনকে ঘিরে সেখান থেকে নিয়ে আসছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গত ২৯ জুন মাসে নারায়ণগঞ্জে সোনারগাঁয়ের একটি মাঠে ফুটবল খেলার সময় রেফারিকে মারধরের দৃশ্য।


জানা গেছে, ২৯ জুন মাদক ও জঙ্গিবিরোধী ওই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। যেখানে এসপি হারুনের নেতৃত্বে পুলিশ প্রশাসনের দল ছিল লাল জার্সিতে। আর নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) আসনের এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার নেতৃত্বে আকাশী জার্সিতে ছিল সোনারগাঁও ফুটবল দল। সোনারগাঁ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্ত্বাবধানে বিকেল সাড়ে ৪টায় এ প্রীতি ফুটবল ম্যাচটি শুরু হয় সোনারগাঁও যাদুঘরের পাশে শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে। এ খেলায় এসপি একাদশের কাছে ২-০ গোলে পরাজিত হয় এমপি একাদশ।

এ ফুটবল খেলা উপলক্ষে জেলা জুড়েই ছিল উত্তেজনা। সেজন্য উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা আন্তর্জাতিক সকল নিয়ম কানুন অনুসরণ করে খেলার আয়োজন করে। উপজেলা জুড়ে দর্শকদের উপস্থিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে মাইকিংও করা হয়। প্রীতি এ ফুটবল খেলায় ফিফার তালিকাভুক্ত রেফারিকে ম্যাচ পরিচালনা করেন। সেদিন বিকেলে খেলোয়াড়র উপস্থিতি হওয়ার আগেই কানায় কানায় মাঠ ভরে উঠে। চারদিক থেকে দর্শকের ভীড়। মাঠও সাজানো হয় রঙ বেরঙের পতাকা দিয়ে। মাঠের এক পাশে করা হয় উপস্থাপনার মঞ্চ। ছিল ট্রফি, মেডেল, ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছার ফুল।


ম্যাচের প্রথমার্ধের খেলা ভালোই শেষ হয়। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে খেলা চলার এক পর্যায়ে এসপি হারুন অর রশীদ এমপি একাদশকে অফসাইড থেকে গোল দেন। আর সেটা রেফারির চোখে পড়লে তিনি অফসাইডের পতাকা ও বাঁশি বাজান। একই সঙ্গে গোল বাতিল ঘোষণা করেন। সঙ্গে সঙ্গে রেগে যান এসপি হারুন। গোল বাতিল করার ক্ষোভে দৌড়ে এসে রেফারিকে লাথি মারেন এসপি হারুন। আর সঙ্গে সঙ্গে চারদিক থেকে এসপি একাদশের অন্য খেলোয়াররা  রেফারীকে ঘিরে ফেলে মারধর শুরু করে। কিন্তু নিরাপত্তায় থাকা অন্য পোশাক পরা পুলিশ সদস্যরা রেফারিকে না রক্ষা করে উল্টো এসপি হারুনকে রক্ষা করে মাঠ থেকে নিয়ে যান। আর অন্য দিকে মারধর থেকে বাঁচতে রেফারী দৌড়ে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত দর্শকেরা মাঠে নেমে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে দর্শকদেরও বাকবিতণ্ডা হয়।


ঘটনার এখানেই শেষ নয়! এসব পরিস্থিতির সময় মাঠেই উপস্থিত ছিলেন এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন কুমার সরকার, সোনারগাঁও থানার ওসি মনিরুজ্জামান সহ উর্ধ্বতন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরে তাদের সকালের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আবারও খেলা শুরু হয়। ওই ঘটনার পর খেলা চলাকালীন এমপি একাদশের এক খেলোয়ার খুব ভালোভাবে খেলছিলেন। একের পর এক এসপি একাদশের গোল পোস্টকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করে যাচ্ছিলেন। যখন উভয় পক্ষই ছিল গোল শূন্য। তখন এসপি একাদশের এক সদস্য পিস্তল দেখিয়ে ভয় দেখায় যাতে সে ভালো না খেলে। অন্যথায় তাকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয়। এতে ভয় পেয়ে মাঠ ছেড়ে পালিয়ে যায় ওই খেলোয়ার। পরে দশজনের দলের সঙ্গে এসপি একাদশের খেলোয়ার দুই গোল দেন। তবে ততক্ষণে দর্শকেরাও মাঠের খেলা ছেড়ে চলে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে রেফারিকে মারধর করে এসপি একদশের সদস্যরা সে রেফারি হলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশনের নিয়োগভুক্ত রেফারি। ফলে বিষয়টি চাপা দিতে তোড়জোড় শুরু করেছিলেন স্থানীয় এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা। সে সময় উপস্থিত দর্শকদের হুমকি দেওয়া হয় এসব ঘটনা প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। গণমাধ্যমের কর্মীদেরও ভিডিও দৃশ্য ধারণের মেমোরি কার্ড রেখে দেয়া হয়। যার ফলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

গত ৩ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদকে পুলিশ হেড কোয়ার্টারে বদলি করা হয়। আর গত ৭ নভেম্বর জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিদায় জানানো হয়। এরপর থেকে থেকে এসপি হারুনের কর্মকাণ্ড নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১ নভেম্বর রাতে পারটেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ হাশেমের ছেলে শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ফারা রাসেল ও ছেলে আনাব আজিজকে বাসা থেকে তুলে আনার অভিযোগ ওঠে এসিপ হারুন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিমের বিরুদ্ধে। আর এই অভিযোগসহ একাধিক অভিযোগের কারণে তাকে বদলি করা হয়েছে। ঘটনার পরেই ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার জানান, বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে হয়েছি। সে সময় তাৎক্ষণিক সেটা সমাধান করে পুনরায় খেলা শুরু হয়।

COMMENTS





নাম

অর্থ ও বাণিজ্য,197,আন্তর্জাতিক,648,কাপাসিয়া,293,কালিয়াকৈর,357,কালীগঞ্জ,220,খেলা,556,গাজীপুর,3426,চাকরির খবর,22,জয়দেবপুর,1564,জাতীয়,2425,টঙ্গী,839,তথ্যপ্রযুক্তি,476,ধর্ম,187,পরিবেশ,127,প্রতিবেদন,295,বিজ্ঞান,54,বিনোদন,586,ভিডিও,58,ভিন্ন খবর,136,ভ্রমন,108,মুক্তমত,26,রাজধানী,763,রাজনীতি,979,লাইফস্টাইল,253,শিক্ষাঙ্গন,361,শীর্ষ খবর,8877,শ্রীপুর,418,সাক্ষাৎকার,12,সারাদেশ,595,স্বাস্থ্য,190,
ltr
item
GazipurOnline.com: রেফারিকে এসপি হারুনের মারধরের সেই ভিডিও প্রকাশ, মুহূর্তেই ভাইরাল
রেফারিকে এসপি হারুনের মারধরের সেই ভিডিও প্রকাশ, মুহূর্তেই ভাইরাল
https://1.bp.blogspot.com/-TGUllH9aNM0/Xcq6AJ8DWoI/AAAAAAAAeaM/jj5uV3x1mTsUS5ERrwtiHzEPoz5y1_c5gCLcBGAsYHQ/s1600/harun.jpg
https://1.bp.blogspot.com/-TGUllH9aNM0/Xcq6AJ8DWoI/AAAAAAAAeaM/jj5uV3x1mTsUS5ERrwtiHzEPoz5y1_c5gCLcBGAsYHQ/s72-c/harun.jpg
GazipurOnline.com
https://www.gazipuronline.com/2019/11/spharun_12.html
https://www.gazipuronline.com/
https://www.gazipuronline.com/
https://www.gazipuronline.com/2019/11/spharun_12.html
true
13958681640745950
UTF-8
Loaded All Posts Not found any posts VIEW ALL Read More Reply Cancel reply Delete By প্রচ্ছদ PAGES POSTS View All RECOMMENDED FOR YOU LABEL ARCHIVE SEARCH ALL POSTS Not found any post match with your request Back Home Sunday Monday Tuesday Wednesday Thursday Friday Saturday Sun Mon Tue Wed Thu Fri Sat January February March April May June July August September October November December Jan Feb Mar Apr May Jun Jul Aug Sep Oct Nov Dec just now 1 minute ago $$1$$ minutes ago 1 hour ago $$1$$ hours ago Yesterday $$1$$ days ago $$1$$ weeks ago more than 5 weeks ago Followers Follow THIS PREMIUM CONTENT IS LOCKED STEP 1: Share. STEP 2: Click the link you shared to unlock Copy All Code Select All Code All codes were copied to your clipboard Can not copy the codes / texts, please press [CTRL]+[C] (or CMD+C with Mac) to copy